Thursday, July 30, 2026
PrimeBulletin

Ongoing story

কেন সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে? ইতিহাস ও বিতর্ক

কেন সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে? ইতিহাস ও বিতর্ক

উপমহাদেশে সরকারি দপ্তরের চেনা চিত্র—মাথার ওপরে ধীরগতির পাখা, টেবিলে ফাইলের স্তূপ, পাশে স্টিলের আলমারি। এর সঙ্গে আরেকটি পরিচিত দৃশ্য হলো কর্মকর্তাদের চেয়ারের ওপর বিছানো সাদা তোয়ালে।

কিন্তু এই সাধারণ তোয়ালেই যে এত বড় প্রতীক ও বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে, তা সাম্প্রতিক আলোচনায় নতুন করে সামনে এসেছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে আইনপ্রণেতাদের এক অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এতে আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও তার ঐতিহাসিক শেকড় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার সিং-এর একটি জরুরি বৈঠক থেকে। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংসদ সদস্য ও বিধায়কদের জন্য কর্মকর্তাদের মতো একই উচ্চতার এবং সাদা তোয়ালে দেওয়া চেয়ার নিশ্চিত করতে হবে।

জানা গেছে, লখনৌয়ের সচিবালয়ে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে প্রায় এক হাজার তোয়ালে পরিবর্তন করা হয়।

সম্প্রতি কয়েকজন জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, কর্মকর্তাদের চেয়ারে সাদা তোয়ালে থাকলেও তাদের চেয়ারে তা ছিল না, যা তারা অসম্মানজনক বলে মনে করেন।

এই প্রথাকে ঘিরে মতভেদ তৈরি হয়েছে সাবেক আমলা ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর নেতা গুরদীপ সিং সপ্পাল একে ব্রিটিশ শাসনামলের উত্তরাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, একসময় কাঁচা রাস্তা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের কারণে কর্মকর্তারা ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করতেন। তখন ঘাম মুছতে ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাদা তোয়ালে ব্যবহার করা হতো।

ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও এই প্রথা থেকে গেছে এবং অনেকের মতে এটি এখন ক্ষমতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের সাবেক আমলা আশীষ যোশী এই প্রথাকে ‘সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে চেয়ারে তোয়ালে রাখা এখন আর প্রয়োজনীয় নয়; এটি কেবল পদমর্যাদার প্রদর্শন।

এদিকে যোগী আদিত্যনাথ-এর ব্যবহৃত চেয়ারে সাদা তোয়ালের বদলে কমলা রঙের তোয়ালে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

শুধু তোয়ালে নয়, টেবিলের আকার ও কালির রঙও আমলাতন্ত্রে ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। সাবেক মন্ত্রী অরুণ শৌরি-এর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, একসময় লাল ও সবুজ কালি ব্যবহারের অধিকার নিয়েও দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল, যা কেবল জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

এ বিষয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা যশোবর্ধন ঝা আজাদ এই প্রথাকে ‘তোয়ালে ঐতিহ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, একসময় প্রয়োজনীয় হলেও বর্তমানে এটি একটি প্রতীকী রীতি, যা সেবার চেয়ে পদমর্যাদাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।

ডিজিটাল যুগে এমন ঔপনিবেশিক ধারা এখনও বহাল থাকা উচিত কি না—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

সূত্র: একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

More