Friday, July 31, 2026
PrimeBulletin

Ongoing story

২০০৯ থেকে মানবতার পথচলা: ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার-এক অনন্য উদ্যোগ ‘ভালো কাজের হোটেল’

২০০৯ থেকে মানবতার পথচলা: ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার-এক অনন্য উদ্যোগ ‘ভালো কাজের হোটেল’

সমাজের অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে সম্মানের সাথে খাবার তুলে দেওয়ার ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ ‘ভালো কাজের হোটেল’—যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। দীর্ঘ এই পথচলায় উদ্যোগটি শুধু ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যমেই থেমে থাকেনি, বরং মানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় এই মানবিক উদ্যোগের কার্যক্রম ঘিরে প্রতিদিনই জমে ওঠে ব্যস্ততা। এখানে কেউ ভিক্ষা করে না—বরং ছোট ছোট ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রাপ্য খাবার অর্জন করে নেয় অসহায় মানুষগুলো।


কাওরান বাজার বোর্ডের দায়িত্বে থাকা শাহ আলম ভাইয়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, “এই কার্যক্রম আমরা শুরু করি ২০০৯ সালে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল—কেউ যেন না খেয়ে না থাকে, কিন্তু সেই সাহায্যটা যেন হয় সম্মানজনকভাবে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই, যারা আসবেন তারা ছোট ছোট ভালো কাজ করবেন, আর তার বিনিময়ে খাবার পাবেন।”
 

তিনি আরও বলেন,“এখানে অনেক পথশিশু, দিনমজুর, অসহায় মানুষ আসে। তারা কেউ রাস্তা পরিষ্কার করে, কেউ গাছ লাগায়, কেউ আশপাশের পরিবেশ ঠিক রাখে। এই কাজগুলোর মাধ্যমেই তারা খাবার গ্রহণ করে। এতে তাদের আত্মসম্মান বজায় থাকে, আর সমাজও উপকৃত হয়।”


সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে এসে স্বেচ্ছায় বিভিন্ন ছোটখাটো কাজে অংশ নিচ্ছেন। কেউ ময়লা পরিষ্কার করছেন, কেউ বৃদ্ধদের সহায়তা করছেন—আর কাজ শেষে পরিপাটি করে বসে খাচ্ছেন একবেলা তৃপ্তির খাবার। তাদের মুখে ফুটে ওঠা হাসি যেন এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য।


একজন সুবিধাভোগী কিশোর জানায়, “আগে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হতো। এখন এখানে এসে কাজ করি, তারপর খাই। এতে নিজের কাছেও ভালো লাগে, মনে হয় আমি কিছু করে খাচ্ছি।”


সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু দান নয়—এটি একটি সচেতন সামাজিক আন্দোলন। এটি মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ এবং কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয়দের অনেকেই এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছেন, কেউ খাবার প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই কার্যক্রমকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ফলে ‘ভালো কাজের হোটেল’ এখন শুধু একটি উদ্যোগ নয়—এটি হয়ে উঠেছে মানবতার এক শক্তিশালী প্রতীক।
২০০৯ সালে শুরু হওয়া এই ছোট্ট প্রয়াস আজ এক বিশাল মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ‘ভালো কাজের হোটেল’ প্রমাণ করেছে—সাহায্য মানেই করুণা নয়, বরং সম্মান দিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। হয়তো এই পথ ধরেই বদলে যাবে সমাজ, যেখানে প্রতিটি মানুষ পাবে তার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা।

More